বিশ্বমানের ডিভাইস এখন তৈরি হবে বাংলাদেশে

ইকোসিস্টেমে বৈশ্বিক এআই ডিভাইস প্রযুক্তি ব্র্যান্ড হিসেবে
বাংলাদেশে অত্যাধুনিক উৎপাদন কারখানা স্থাপন করেছে অনার। স্থানীয় কারখানায়
সংযোজিত সব ডিভাইসে স্বীকৃতি দেওয়া হবে মেইড ইন বাংলাদেশ।
বাংলাদেশে বৈশ্বিক এআই উদ্ভাবন ও স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতার মিশেলে
উৎপাদন উৎকর্ষের নতুন মানদণ্ড স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন উদ্যোক্তারা।
কারখানায় যন্ত্রাংশ সংযোজনের স্পর্শকাতর ধাপে এআই প্রযুক্তি পরিচালিত অটোমেশন
পদ্ধতির প্রচলন করা হয়েছে, যা নির্ভুল ও কার্যকর উৎপাদন নিশ্চিত করবে।
উদ্যোক্তারা বলেন, প্রথম ধাপে কারখানায় সুনির্দিষ্ট প্রোডাকশন লাইন
দিয়ে প্রতিদিন দেড় হাজার ইউনিট উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হবে। যাত্রার প্রথম
বছরে চারটি প্রোডাকশন লাইন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে
সক্ষমতা বাড়াবে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরের
গুরুত্ব এবং ডিভাইস ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। নিজেদের দক্ষতার
যেটুকু ঘাটতি রয়েছে, তা কমিয়ে আনতে হবে। ডিভাইসকে সহজলভ্য করতে হবে। তরুণদের
জন্য সময়োপযোগী কর্মসংস্থান তৈরিতে উদ্যোগ নিতে হবে।
স্মার্ট ও অনার বাংলাদেশে অর্থবহ কর্মসংস্থান তৈরির যে প্রতিশ্রুতি
দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের দিকে সত্যিকার অর্থেই এটি বড় পদক্ষেপ। কর্মসংস্থান ও
উদ্যোক্তা তৈরিতে এই ব্র্যান্ডের স্মার্ট কারখানা সহায়ক হবে। এই কারখানা লাইন
বাস্তবিক অর্থেই কর্মসংস্থানবান্ধব করে পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি বছর একটি লাইন
সক্রিয় রয়েছে। আগামী বছরে চারটি লাইন চালু হবে। এর মাধ্যমে দেশে উল্লেখযোগ্য দক্ষ
জনবল তৈরি হবে, দক্ষতা-বিনিময়ের সুযোগ বাড়বে। অন্যদিকে, এই শিল্পকে ঘিরে নতুন
উদ্যোক্তারা ব্যাকওয়ার্ড ও ফরোয়ার্ড লিঙ্কেজ তৈরিতে উৎসাহিত হবেন।
অনার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট জর্জ ঝেং বাংলাদেশে
ব্র্যান্ডের লক্ষ্য নিয়ে বলেন, এই কারখানা শুধু অবকাঠামো নয়; বাংলাদেশ সরকারের
মধ্যে অংশীজনের প্রতীক। স্থানীয় সক্ষমতা ও বৈশ্বিক দক্ষতার মিশেল ঘটেছে যেখানে।
লক্ষ্য শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টি নয়; এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে স্থানীয়
পেশাজীবীর দক্ষতা বিকশিত হবে এবং প্রযুক্তি অগ্রসর হবে।
স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ
জহিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে স্মার্টফোন গ্রাহক সাশ্রয়ী দামে ব্র্যান্ডের ফোন
কিনতে আগ্রহী। স্থানীয় এ চাহিদা পূরণে আমরা এই কারখানা স্থাপন করেছি।
প্রাথমিক উৎপাদনক্ষমতা ৬০ হাজার ইউনিট। চাহিদা বাড়লে তা বাড়ানো
হবে। বাংলাদেশ ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং একক রপ্তানিমুখী শিল্পের
ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে। ভবিষ্যতে বিশ্বমানের প্রযুক্তি উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে
বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রমাণ এটি।








