চিকিৎসকের পদ ২১টি, কর্মরত আছেন পাঁচজন

পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট বিরাজ করছে। চিকিৎসকের অনুমোদিত ২১টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক। যাতায়াত সুবিধার কারণে এ উপজেলায় শুধু বেড়া নয়, পাশের আরও চার উপজেলার রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। এতে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সব সময়েই রোগীর ভিড় থাকে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবে সেবা পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। 

২০০৬ সালে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ শেষে ২০১১ সালের ৭ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু অনুমোদন দেওয়ার পর থেকে এখনও পূর্ণ জনবল পাওয়া যায়নি এখানে। অথচ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পাবনার সাঁথিয়া, সুজানগর এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

জানা গেছে, ৫০ শয্যার জনবল অনুযায়ী ২১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কখনই সেটা দেখা যায়নি। অল্প সময়ের জন্য কখনও ১০ থেকে ১২ জন চিকিৎসক এখানে যোগ দিলেও পরে তাদের বেশির ভাগই বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত আরএমওসহ মাত্র পাঁচ চিকিৎসক। আরএমওকে সব সময় প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে জরুরি ও বহির্বিভাগ মিলিয়ে মাত্র চারজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া উপজেলার তিনটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন করে মোট তিনজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও একটিতেও কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই।

গতকাল রোববার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুরে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে প্রচুর রোগী লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। চিকিৎসকের কক্ষের সামনে লাইনে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বেড়া পৌর এলাকার দক্ষিণপাড়া মহল্লার সালেহা খাতুন ও সাঁথিয়ার তলট গ্রামের মনোয়ারা খাতুনকে। তারা জানান, ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসক দেখাতে এসেছেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থান মহাসড়কের পাশে হওয়ায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনার আহত রোগী এখানকার জরুরি বিভাগে ছুটে আসেন। এ ছাড়া হঠাৎ অসুস্থ হওয়া বা অন্যান্য দুর্ঘটনায় আহত রোগীর চাপ তো রয়েছেই। অথচ প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় জরুরি বিভাগে এসে রোগীরা ঠিকমতো চিকিৎসা পান না। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের বাইরের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যা নিয়মিতভাবে রোগীতে পূর্ণ থাকে। অথচ  চিকিৎসা দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসক সেখানে নেই।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) মিলন মাহমুদ জানান, প্রতিদিন বহির্বিভাগে দুই শতাধিক রোগী আসে। চিকিৎসক সংকট থাকায় রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা নীলা বলেন, চিকিৎসকের অভাবে এত বড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালানো একরকম কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন।