সূচকের পতনেও বাড়ল লেনদেন

দেশের পুঁজিবাজারে সূচক কমলেও লেনদেনে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় গতকাল ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর কমেছে।

ডিএসইর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ২৩ দশমিক ৪২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯২৭ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ দশমিক ৮২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৪ পয়েন্টে এবং ডিএস ৩০ সূচক ৭ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ডিএসইতে গতকাল লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।

ডিএসইর তথ্যমতে, গতকাল লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানি এবং ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে। ডিএসইতে গতকাল মোট ৩৯৪টি কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩টি ফান্ড ও কোম্পানির দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ২৩৬টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে ৬৫টি ফান্ড ও কোম্পানির দর অপরিবর্তিত ছিল।

এদিকে বিভিন্ন ক্যাটেগরির মধ্যে ‘এ’ ক্যাটেগরির ২১৮টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি কোম্পানি ও ফান্ডের দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ১৪০টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর। একইভাবে ‘বি’ ক্যাটেগরির ৮০টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি ফান্ড ও কোম্পানির দর দাম বেড়েছে। এর বিপরীতে ৫১টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর।

‘জেড’ ক্যাটেগরির ৯৬টি কোম্পানি ও ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি ফান্ড ও কোম্পানির দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ৪৫টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ২০টি ফান্ড ও কোম্পানির দর।

এদিকে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বেশির ভাগ ফান্ডের ইউনিটের দরও কমেছে। লেনদেন হওয়া ৩৫টি ফান্ডের মধ্যে একটি ফান্ডের ইউনিট ৮টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ১০টি ফান্ডের ইউনিট দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ১৭টি ফান্ডের ইউনিট দর।

ডিএসইতে গতকাল মোট ১৬ কোটি ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার ৩০২টি শেয়ার ও ইউনিট এক লাখ ৫১ হাজার ৬২৪ বার হাতবদল হয়েছে। এরই জেরে দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন দাঁড়ায় ৪০৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৭৯ কোটি ৭ লাখ টাকা।

এ লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ২১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার। ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাভেলো আইসক্রিম।

ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑবিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, ওরিয়ন ইনফিউশন, মুন্নু ফেব্রিক্স, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, একমি পেস্টিসাইজ ও সায়হাম কটন।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের ফলে লেনদেনে ইতিবাচক গতি দেখা যাচ্ছে, যা সামগ্রিক বাজার স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখবে।