‘জেড’ থেকে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে উন্নীত হলো ইনটেক লিমিটেড

 পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইটি খাতের কোম্পানি ইনটেক লিমিটেডের শেয়ারের ক্যাটেগরি পরিবর্তন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনায় ‘জেড’ ক্যাটেগরির এই কোম্পানিটি ‘বি’ ক্যাটেগরিতে উন্নীত হয়েছে। আজ সোমবার থেকে এই কোম্পানির শেয়ার ‘বি’ ক্যাটেগরির অধীনে লেনদেন শুরু হবে। কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন, ২০২৪ সমাপ্ত হিসাববছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগকারীদের জন্য শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের এ লভ্যাংশ দেয়ায় কোম্পানিটির ক্যাটেগরি পরিবর্তন হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৬ পয়সা এবং ৩০ জুন ২০২৪ তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫ পয়সা (লোকসান)। আর এই হিসাববছরে শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৭৪ পয়সা। এর আগের বছর অর্থাৎ ৩০ জুন ২০২৩ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ কোন লভ্যাংশ দেয়নি। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭৪ পয়সা (লোকসান) এবং ৩০ জুন ২০২৩ তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২১ পয়সা (লোকসান)। আর এই হিসাববছরে শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ২৯ পয়সা (লোকসান)।

এদিকে গতকাল ডিএসইতে শেয়ারদর অপরিবর্তীত থেকে প্রতিটি সর্বশেষ ১৯ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১৯ টাকা ৬০ পয়সা। দিনজুড়ে ৫৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার মোট ১৪৭ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১১ লাখ টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ১৯ টাকা ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ১৪ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৪১ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

কোম্পানিটি ২০০২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। কোম্পানির ১২০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৩২ লাখ ১০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির ৩ কোটি ১৩ লাখ ২১ হাজার ২২৬টি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৬১ দশমিক ১৩ শতাংশ শেয়ার।

এদিকে চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০২৪) শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমেছে ইনটেক লিমিটেডের। কোম্পানিটির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০২৪) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১১ পয়সা (লোকসান), আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৪ পয়সা। অর্থাৎ শুধু দ্বিতীয় প্রান্তিকের হিসেবে ইপিএস কমেছে ৫৫ পয়সা। অন্যদিকে প্রথম দুই প্রান্তিকে বা প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৯ পয়সা (লোকসান), যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৩৪ পয়সা। অর্থাৎ প্রথমার্ধে বা প্রথম দুই প্রান্তিকে ইপিএস কমেছে ৫৩ পয়সা। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৬ পয়সা (লোকসান)। এছাড়া প্রথম দুই প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ৪ পয়সা (লোকসান), অথচ আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৪৪ পয়সা।