ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ১৮ শতাংশ কমেছে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহজুড়ে সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমায় সূচকের পতন দেখা গেছে। একইসঙ্গে দৈনিক গড় লেনদেন ১৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে গত সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে, আর গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহে মোট ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়।

এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৮টির, কমেছে ২৭২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৬ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি ১৭টির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩৩৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছিল ৪১২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এদিকে গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ওঠে এসেছে বস্ত্র খাতের কোম্পানি ডেল্টা স্পিনার্স লিমিটেড। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বা ৪০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৬ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল একই। দিনজুড়ে ৪৩ লাখ ৯০ হাজার ৯০৩টি শেয়ার ১ হাজার ২৭৬ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ২ কোটি ৭৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়। তবে গত এক বছরের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৮ টাকা ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

এদিকে সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির তালিকায় এর পরের অবস্থানে থাকা খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের ২৫ দশমিক ৭১ শতাংশ, সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১০ শতাংশ বা ২ টাকা ৪০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ২৬ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল একই। দিনজুড়ে ২৩ লাখ ৫২ হাজার ৩৩৫টি শেয়ার ২ হাজার ৬২১ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ৬ কোটি ৫ লাখ টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ২৪ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ২৬ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়। তবে গত এক বছরের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৭ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫৯ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

টপ টেন গেইনারের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা তাল্লু স্পিনিং লিমিটেডের ২১ দশমিক ৫৭ শতাংশ, এর পরের অবস্থানে থাকা যথাক্রমে প্রাইম টেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, হাক্কানি পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস লিমিটেডের ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস লিমিটেডের ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ, সোনারগাঁও টেক্সটাইলস লিমিটেডের ১০ দশমিক ১৪ শতাংশ, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ, এসবিএসি ব্যাংক পিএলসির ৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ৮ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে।

গত সপ্তাহে লেনদেনের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করে আইটি খাতের কোম্পানি এডিএন টেলিকম লিমিটেড। আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনে কোম্পানিটির অবদান ৩ দশমিক ১১ শতাংশ। সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে শেয়ারদর শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ বা ৫০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৯০ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল একই। দিনভর কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৯২ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়। দিনজুড়ে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৮৩টি শেয়ার মোট ১ হাজার ৩৯৮ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ২ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আর গত এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ৭৭ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১৫১ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

২০১৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন হচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ার। ২০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৬৪ কোটি ৬৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। কোম্পানির রিজার্ভে রয়েছে ৯৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তাদের মোট ছয় কোটি ৪৬ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে ৪২ দশমিক ৮১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২১ দশমিক ২৯ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে বাকি ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৩১ পয়সা, আর ২০২৪ সালের ৩০ জুন তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৩৫ পয়সা।