ডিএসই গত সপ্তাহে দৈনিকগড় লেনদেন ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহজুড়ে সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ায় সূচকের উত্থান দেখা গেছে। একইসঙ্গে দৈনিক গড় লেনদেন ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে গত সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে ৫ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে, আর গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহে মোট ৩৯৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২০১টির, কমেছে ১৫০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৬ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি ১৬টির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪১২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছিল ৩৭৮ কোটি ৭ লাখ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। এদিকে গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ওঠে এসেছে কাগজ ও মুদ্রণ খাতের কোম্পানি খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ২২ দশমিক ৮১ শতাংশ। সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর অপরিবর্তীত থেকে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ২১ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল একই। দিনজুড়ে ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৬২২টি শেয়ার ১ হাজার ৫৬০ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ২ কোটি ৭৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ২০ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ২২ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়। তবে গত এক বছরের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৭ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫৯ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘জেড’ ক্যাটেগরিভুক্ত খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৭৩ কোটি ৪ লাখ টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসান রয়েছে ৮৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারসংখ্যা ৭ কোটি ৩০ লাখ ৪০ হাজার। এর মধ্যে ৩৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে, ১ দশমিক ১১ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ও বাকি ৫৯ দশমিক ১৩ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে।
এদিকে সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির তালিকায় এর পরের অবস্থানে থাকা অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেডের ১৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ, কোহিনুর কেমিক্যালস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ১৪ দশমিক ২৭ শতাংশ, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ১৩ দশমিক ০৯ শতাংশ, ঢাকা ডায়িং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ, দুলামিয়া কটন মিলস লিমিটেডের ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ, ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, এডিএন টেলিকম লিমিটেডের ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে।
গত সপ্তাহে লেনদেনের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করে এডিএন টেলিকম লিমিটেড। আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনে কোম্পানিটির অবদান ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে শেয়ারদর ৫ দশমিক ১৮ শতাংশ বা ৫ টাকা ৭০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ১০৪ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল একই। দিনভর কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৯৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়। দিনজুড়ে ১০ লাখ ২৩ হাজার ৮৪০টি শেয়ার মোট ২ হাজার ৪০৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১০ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর গত এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ৭৭ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১৫১ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।
২০১৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন হচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ার। ২০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৬৪ কোটি ৬৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। কোম্পানির রিজার্ভে রয়েছে ৯৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তাদের মোট ছয় কোটি ৪৬ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে ৪২ দশমিক ৮১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ২১ দশমিক ২৯ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে বাকি ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৩১ পয়সা, আর ২০২৪ সালের ৩০ জুন তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৩৫ পয়সা। এর আগে ২০২৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।








